নারীদের নিয়ে যা বললো, পড়ে দেখুন

মাস্টার্স পাস অনেক মেয়েকে চিনি, যারা স্বামীর ঘরে তিনবেলা ভাত চোখের পানি ঝরানো ছাড়া খেতে পারে না। তাদের ভাত-তরকারির সঙ্গে চোখের পানিও মিশে একাকার হয়। 

এদিকে নিরক্ষর অনেককে জানি, যারা স্বনির্ভর হয়েই বেঁচে আছেন। নিজের এবং পরিবারের দায়িত্ব বহন করে চলেছেন।

সেদিন এক গ্রুপে এক আপুর পোস্টে পড়লাম, তিনি তার ধনী শ্বশুরবাড়িতেও সুখে নেই। স্বামী নেশাগ্রস্ত, বেকার তাই শাশুড়ির নানা নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে আছেন। ক্ষুধার জ্বালায় তিনি শাশুড়ির ফ্রিজ থেকে একটি ডিম চুরি করে ভেজে খেয়েছেন। পড়ে এত মন খারাপ হলো। তার কষ্ট দেখে মন খারাপ তো হলোই, তিনি নিজেকে কোন অবস্থায় নিয়ে গেছেন তা দেখেও মন খারাপ হলো। 

সার্টিফিকেট অর্জন করে ড্রয়ারে বন্দি করে রাখা আর স্বনির্ভর হওয়া এক জিনিস নয়। আমাদের ফুলবানু আপা (গৃহকর্মী) বিশ বছর ধরে তার মানসিকভাবে অসুস্থ, উপার্জনহীন স্বামীকে বয়ে বেড়াচ্ছেন, ফেলে দেননি। পুরো পরিবারের দায়িত্ব ওই নিরক্ষর নারীর উপর।

করোনাকালের আগে যখন অফিস করতাম, পাঁচটার দিকে বের হলে অনেক গার্মেন্টকর্মী নারীকে দেখতে পেতাম। তাদের তখন ছুটি হতো। তাদের মধ্য থেকে কাউকে আলাদা করা যায় না। সবার পোশাক এবং চলাফেরার ধরন প্রায় একই। হয়তো তিন রকমের তিনটি জামা-পাজামা-ওড়না পরা অথবা সস্তার বোরকা-হিজাব পরা। দেখতে তো আকর্ষণীয় নয়-ই। কিন্তু তাদের হেঁটে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে আমি আত্মবিশ্বাস দেখতে পেয়েছি। তারা সংগ্রামী ও যোদ্ধা। অনেক বড় বোঝা হয়তো তারা বহন করে চলেছেন, তবে তারা অন্যের বোঝা নন।

আমার এক বান্ধবী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করেও গৎবাঁধা কোনো চাকরিতে ঢোকেনি। তবে সে আরও অনেকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। উদ্যোক্তা হয়ে নিজের পাশাপাশি অনেকের রুটি-রুজির উছিলা হয়েছে।

আরেক বান্ধবী আছে যে ধনীর দুলালি এবং ধনীর স্ত্রীও। আর্থিকভাবে কষ্টে থাকার তার কোনো কারণ নেই। তবু সে নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছে। ঘরে বসেই সে রান্না করা খাবার অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। এটি আসলে যতটা না টাকার জন্য, তার থেকে অনেক বেশি নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য।

যোগ্যতা সবারই কিছু না কিছু থাকে। সেসব কাজে লাগাতে জানতে হয়। আপনার দুর্দান্ত রেজাল্টওয়ালা সার্টিফিকেট ড্রয়ারে বন্দি থেকে আপনাকে কীভাবে মানসিক শান্তি দেয়? যে শিক্ষা আপনাকে স্বনির্ভর হতে শেখায় না, সেই শিক্ষা খেতা পোড়ার কাজে লাগতে পারে, আর কিছুতে নয়।

আপনি পড়াশোনা করুন, যতদূর ইচ্ছা হয় পড়ুন। সেইসঙ্গে নিজের আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মানও ধরে রাখতে শিখুন। নিরক্ষরতা যেমন অভিশাপ, পরনির্ভরশীলতা আরও বড় অভিশাপ। তাই সার্টিফিকেট বুকে আগলে তৃপ্তির ঢেঁকুর না তুলে অন্তত নিজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিন। আপনার দেখাদেখি তখন অন্যরাও শিখতে পারবে।

Comments